সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অটোভ্যানের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব যানবাহন নিয়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে অটোরিকশা ও অটোভ্যান দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৬০৩ জন নিহত হয়েছেন।
একই সময়ে নছিমন, ভটভটি, আলমসাধু, মাহিন্দ্র ও টমটমসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দুর্ঘটনায় আরও ২ হাজার ৪৬৫ জন নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৮০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। এসব যানবাহনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক পরিবারের জীবিকা জড়িত। ফলে একদিকে দুর্ঘটনা কমানো, অন্যদিকে এসব যানবাহনের সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কার্যকর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশাকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত নীতিমালায় নিবন্ধন, ফিটনেস পরীক্ষা, চার্জিং ব্যবস্থা, গ্যারেজ ব্যবস্থাপনা এবং চলাচলের রুট নির্ধারণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের অনুমতি থাকবে না। নিবন্ধিত ই-রিকশা নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচল করতে পারবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ফিটনেস সনদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ব্যবস্থাও প্রস্তাবিত নীতিমালায় রাখা হচ্ছে।
এদিকে চলতি বছরের জুন মাসের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানেও থ্রি-হুইলার যাত্রীদের প্রাণহানির বিষয়টি উঠে এসেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, জুনে অটোরিকশা, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি ও মিশুকসহ থ্রি-হুইলারের যাত্রীদের মধ্যে ১১২ জন নিহত হন।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন চলাচল, যানবাহনের ফিটনেস, চালকদের দক্ষতা, ট্রাফিক আইন না মানা এবং ধীরগতির ও দ্রুতগতির যান একই সড়কে চলাচলের মতো বিষয়। রাজধানীর ক্ষেত্রেও রোড সেফটি ফাউন্ডেশন অপর্যাপ্ত সড়ক অবকাঠামো, মিশ্র যান চলাচল, ফুটপাত দখল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ফলে অটোরিকশা ও অটোভ্যানকে একদিকে জনসাধারণের সহজলভ্য পরিবহন হিসেবে বিবেচনায় রেখে, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিবন্ধন, ফিটনেস, নির্ধারিত রুট ও কার্যকর নজরদারির আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।