রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান এসব তথ্য জানান। আটক ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের এই বিবরণ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার শুরু শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে অপ্রতিমকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দেখা যায়। সেখানে এক যুবকের সঙ্গে তাকে হাত মেলাতে ও প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলতে দেখা যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের চলাফেরার তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, তুহিনই মেসেজ পাঠিয়ে অপ্রতিমকে ডেকে নেয়। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গলের দিকে। পুলিশ বলছে, আইফোনটি ছিনিয়ে নেয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করে পুলিশ। পরে তুহিনকে আটক করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে যায় এবং শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তুহিনের বাসা থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে তার বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।
পুলিশ সুপার ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে আইফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। বাধা দেয়ার পরই তার মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়।
অপ্রতিমের মৃত্যুর পরও ঘটনাটির আরেকটি নির্মম দিক সামনে আসে। স্থানীয় এক কৃষকের বরাতে জানা যায়, পাহাড়ের নির্জন স্থানে পড়ে থাকা তার মরদেহ একটি শিয়াল টানাহেঁচড়া করছিল।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের শেষ কয়েক ঘণ্টার গতিপথ এখন অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। বাসা থেকে বের হওয়া, মেসেজে ডেকে নেয়া, সিসিটিভিতে তুহিনের সঙ্গে দেখা যাওয়া, নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত আইফোনের জন্য প্রাণ হারানো। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে চার জনের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্ট হবে।