গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবিতে আয়োজিত লংমার্চে কোনো বাধা দেওয়া হলে ১১ দলের ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সকাল ৭টায় সমাবেশ শুরু হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যে আয়োজিত এই লংমার্চ আপামর জনতার। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হওয়ার চেষ্টা করছে, যারা চাঁদাবাজি করছে এবং যারা গণভোটের গণরায়ের বিরুদ্ধে প্রতারণা করেছে, এই লংমার্চ তাদের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, যতই বাধা আসুক না কেন, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক এক দফার দাবিতে সারাদেশের মানুষ লংমার্চ টু ঢাকায় এসে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এখন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বিভাগে লংমার্চ করা হচ্ছে নতুন করে যারা স্বৈরাচারী হওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের সেই পথ বন্ধ করার জন্য।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই লংমার্চ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। যারা সিন্ডিকেট করে তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও এই কর্মসূচি। একই সঙ্গে যারা ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও লংমার্চ।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার লংমার্চে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ১১ দলের ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য ঘোষিত লংমার্চে কোনো বাধা এলে তা মোকাবিলা করেই গন্তব্যে পৌঁছানো হবে। জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা হলে তাদের টেনে নামাতে হাত এক চুলও কাঁপবে না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থ হয়েছে। দিন দিন মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং জনগণকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সরকারকে সংসদে ভুল স্বীকার করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, দেড়শ টাকার লাঞ্চের গল্প আর ৫০ হাজার ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া গত ছয় মাসে বিএনপি সরকারের বলার মতো আর কোনো সাফল্য নেই।
তিনি আরও বলেন, ৩১ দফার স্বপ্ন দেখানো এবং জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা দলের কার্যক্রমে ইতোমধ্যে মানুষ হতাশ হতে শুরু করেছে। যারা গণভোটের রায় মানে না, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়াবে না বলে ওয়াদা করে দাম বাড়ায় এবং দলীয়করণ করবে না বলে ব্যাপকভাবে দলীয়করণ করে, জনগণ কীভাবে তাদের বিশ্বাস করবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সমাবেশ শেষে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পথে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা করার কথা রয়েছে।