রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোল্লা মো. শাহীন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. রায়হান উদ্দিন (৩৫), রাসেল খান (৩২), আলাউদ্দিন (২৮) ও আবদুল্লাহ (২৮)।

উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ইবাদুর রহমান (২৬) নামে এক অটোরিকশাচালক আহত হন। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করা হয়। তদন্তে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একজনকে শনাক্ত করা হয়। পরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে রায়হান উদ্দিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলে, রায়হানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে লালবাগের ২৫৮ জেন সাহা রোডের একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলার পার্কিং থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। ইটের খোয়ার বস্তার ভেতরে একটি ব্যাগে লাল রঙের কাপড়ের টেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ককটেলগুলো রাখা ছিল। পরে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে। পরে রায়হানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেমরার ডগাইর এলাকা থেকে রাসেল খান, আলা উদ্দিন ও আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ডিবি।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার চারজনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। রায়হান ওই সংগঠনের ঢাকা দক্ষিণের বংশাল থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক বলে দাবি করেছে ডিবি। এছাড়া রায়হান গত বছর মতিঝিল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পাঁচ মাস কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ান বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত দুই থেকে তিন দিনে ঘটে যাওয়া একই ধরনের ঘটনার সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার পেছনের কারণ এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত তা জানার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।

এছাড়া পলাতক রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে গ্রেপ্তারদের যোগাযোগ ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির ডিসি মোল্লা মো. শাহীন বলেন, তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।